মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
চাহিদামত উৎকোচ না পেয়ে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পথ্যের ঠিকাদারকে হয়রানী করার অভিযোগ উঠেছে ওই হাসপাতালে প্রধান অফিস সহকারী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে প্রকাশ, গত অর্থ বছর আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক রোগীদের পথ্য সরবরাহের কাজটি করেন মেসার্স আবু বক্কর ট্রেডার্স। চলতি অর্থ বছরে একই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পথ্য সরবরাহের কাজটি পান। যার কাজের অনুমতি পত্র চলতি সপ্তাহে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বুঝে দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
কাজ পাইয়ে দেয়ার অযুহাতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির নিকট ২০ হাজার টাকা ও একটি স্মার্ট মোবাইল সেট দাবি করেন হাসপাতালের প্রধান অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা না দেয়ায় তার গত অর্থ বছরের জামানতের এক লাখ ২০ হাজার টাকা আটকে দেন।
আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা লিখিত আদেশে গত অর্থ বছরের জামানতের এক লাখ ২০হাজার টাকা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ফেরত দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। কিন্তু প্রধান অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম দাবি কৃত উৎকোচ না পাওয়ায় তার পুর্র্বের জামানতের অর্থ ফেরত দেন নি।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রোভাইডার আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, কাজের অনুমতি পত্র পেলেও দাবিকৃত উৎকোচ না দিলে নতুন করে ঠিকাদারী করতে দিবে না। একই কারনে গত অর্থ বছরের জামানতের অর্থ ফেরৎ দিচ্ছেন না প্রধান অফিস সহকারী। তাই বাধ্য হয়ে গত ৪ মার্চ লালমনিরহাট সিভিল সার্জন বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
তবে উৎকোচ দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম জানান, গত অর্থ বছরের অডিট না হওয়া পর্যন্ত জামানত ফেরৎ দেয়ার নিয়ম নেই। নিয়ম না থাকলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা লিখিত নির্দেশনা দিলেন কেন? এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দেন নি তিনি।
লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডাঃ আবুল কাশেম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অর্থ বছর শেষ হলে সকল প্রকার চুক্তিনামা ও জামানত ফেরত দেয়া হয়। তবে আদিতমারীতে কেন আটকে রাখা হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।